শিরোনাম :
বর্তমান সরকার উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাসী: শিল্পমন্ত্রী নরসিংদীতে ১৬ দিন পর করোনায় আরও ১ জনের মৃ’ত্যু ষ’ড়’য’ন্ত্র করে বিএনপি কখনোই ক্ষ’ম’তায় আসতে পারবে না – শিল্পমন্ত্রী নরসিংদীর পলাশে মেয়র প্রার্থীর সমর্থনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বেলাবতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেঞ্চ ও গাছের চারা বিতরণ আন্তঃজেলা ছি’নতাই’কা’রী চ’ক্রে’র ৭ মহিলা সদস্য গ্রেফতার নরসিংদীর মনোহরদীতে আ’গু’নে প্রবাসীর বাড়ি পু’ড়ে ছা’ই আবারও কানাডার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন জাস্টিন ট্রুডো লোকসানী প্রতিষ্ঠানসমূহকে লাভজনক করতে কার্যকর পন্থা খুঁজে বের করুন- শিল্পমন্ত্রী মাহফুজুর রহমানকে ছেড়ে ফের বিয়ে করলেন ইভা রহমান
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন

কৃত্রিমতায় হারিয়ে গেছে বিয়ের আনন্দ

প্রদীপ কুমার দেবনাথ, নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৩৫ বার
আপডেট : শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১
কৃকৃত্রিমতায়_হারিয়ে_গেছে_বিয়ের_আনন্দ

কৃত্রিমতায় হারিয়ে গেছে বিয়ের আনন্দ, অর্থের গরম, আধুনিকতা, সামাজিকতার অভাব, রুচির পরিবর্তন সর্বোপরি মানসিকতার বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে বিয়ে বাড়ির প্রকৃত আনন্দ।

 নরসিংদী জার্নাল: আগে সকল ধর্মের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল সাধ্যের মধ্যে প্রকৃত আনন্দে ছিল ভরপুর। বাড়ি-ঘর, পাড়া প্রতিবেশী, আত্মীয় স্বজন সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আর হাসি ঠাট্টার মধ্য দিয়ে সকল কাজ সম্পাদন একটা ঐতিহ্যবাহী উৎসব ছিল। তখন বিয়ে বাড়ির সাজসজ্জা, পোশাক-আশাক, আনন্দ-উল্লাস, বিয়ে আচার পালন সবকিছু ছিল শালীনতার। কি আন্তরিকতা !, কি সামাজিকতা ! কি নিয়ম-নীতি ! কি শ্রদ্ধাবোধ ! সবকিছু একটা সিস্টেমে, বিশেষ রসায়নে, পারিবারিক সিদ্ধান্ত মোতাবেক হত।

পাত্রী দেখা, পাত্র নির্বাচন, পাত্র/পাত্রীর ভবিষ্যৎ নিরূপণ এসব নিয়ে চলত দুপরিবারের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ। ঘটকের দৌড়াদৌর অন্ত নেই, বাড়ির মুরুব্বীদের ঘুম নেই, যেন মহাদুশ্চিন্তায় দিন কাটত তাদের। পাত্র পাত্রীও স্বপ্ন বুনত সেই মহা সৌভাগ্যের দিনটির অপেক্ষায়।

একসময় বিয়ের তারিখ চলে আসতো। ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব মিলে হাত দিত বিয়ে বাড়ির সাজসজ্জায়। বিয়ে বাড়ির গেইট, পাত্র-পাত্রীদের বসার স্থান, অতিথিদের বিশ্রামের স্থান অভ্যর্থনা গেইট চমৎকার ভাবে, শিল্পীর শৈল্পিক কারুকার্যে তৈরি করা হত নারিকেল পাতা, বাঁশ ও বেত দিয়ে। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে এ হস্তশিল্পের মাধ্যমে পুরো বিয়েবাড়ি সজ্জিত হতো। রঙিন কাগজ আর বিভিন্ন গাছের পাতায় মঞ্চের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হতো।

প্রাকৃতিক ফুলের মালা আর আলাদা ফুলে নতুন অতিথিকে বরণ করা হতো। মেহেদী পাতা পাটায় পেস্ট করে রঙিন হতো কনেসহ উপস্থিত মেয়েদের হাত। ঘোড়ার গাড়ি, পালকি, গরুর গাড়িতে আসতো বরের বিশাল টিম। আনন্দে সোরগোল শুরু হতো। চলতো বিয়ের নৃত্য, গান আরো কত কি? গল্প, কথায়, বাহারি খাবারে এক চমৎকার আবহ তৈরী হত বিয়ে বাড়িতে।

কিন্তু, অধুনা কৃত্রিমতা আর অতি আধুনিকতা, যান্ত্রিক সভ্যতা বিয়ের সেই আনন্দ ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। আর সেই সানাই, বাঁশি, ঢাক বাজেনা, বাজে উচ্চস্বরে সাউণ্ড সিষ্টেম। সেই হাতের কারুকার্যের পরিবর্তে দেখা যায় কৃত্রিমভাবে বানানো হাজার অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা একই ডেকোরেশন, প্রাকৃতিক মেহেদীর পরিবর্তে কোম্পানির উৎপাদিত মেহেদী, গন্ধহীন চাষ করা বা তৈরি করা ফুল, বিউটি পার্লারের কারিশমায় প্রকৃত চেহারার পরিবর্তে বিকৃত চেহারা।

এখনকার বিয়ে মূলত আসা, খাওয়া আর যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। প্রকৃতপক্ষে আনন্দহীন ভূরিভোজনের উৎসব। কিছুক্ষেত্রে ঐতিহ্য রক্ষা করা আমাদের অত্যধিক প্রয়োজন ছিল। যাতে বাঙালির আদি দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যটা ফুটে উঠে।

প্রদীপ কুমার দেবনাথ, বেলাব, নরসিংদী।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বাংলাদেশ খবর মিডিয়ার একটি  প্রতিষ্ঠান।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ

KhandakerIT

error: Content is protected !!
error: Content is protected !!