মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন

চার লেন প্রকল্পে শম্বুকগতি

রিপু / ১৫৭ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী খবর ||

এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক। সড়কটিকে চার লেনে উন্নীত করার জন্য চূড়ান্ত পরিকল্পনা গৃহীত হয় ৮ বছর আগে। কাজ শুরু হয় এরও দুই বছর পর। এদিকে প্রকল্পের কাজ শুরুর ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও সার্বিক কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। ১১ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মেয়াদ ধরা ছিল ২০২১ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত। কিন্তু কাজের শম্বুকগতির কারণে ওই মেয়াদও পিছিয়ে গেছে আরও তিন বছর। মেয়াদ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে গেছে প্রকল্প ব্যয়ও। ৬ বছরে ব্যয় বৃদ্ধির এই পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। নির্মাণসামগ্রীর দামের যে ঊর্ধ্বগতি, তাতে ২০২৪ পর্যন্ত এই ব্যয় বাড়তে পারে আরও।>

মূলত জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন না হওয়ায় রংপুর থেকে হাটিকুমরুল পর্যন্ত চার লেন মহাসড়কের নির্মাণকাজে দেখা দিয়েছে ধীরগতি। নতুন সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে নির্মাণসামগ্রীর দামের ঊর্ধ্বগতি। বারবার মেয়াদ বাড়ানোর ফলে ব্যয় বাড়ছে প্রকল্পটির। সঠিক সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়ছেন স্থানীয়রা। সেই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।>

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া এই চার লেন প্রকল্পের আওতায় রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড়দরগাহ থেকে মডার্ন পর্যন্ত ৮ নং প্যাকেজের কাজ বন্ধ রয়েছে কয়েক বছর ধরে। বন্ধ রয়েছে প্যাকেজের আওতায় কোনো কোনো মৌজার জমি অধিগ্রহণের কাজ। মিঠাপুকুর উপজেলার শঠিবাড়ী হরিপুর মৌজার জমি অধিগ্রহণের জন্য নোটিস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত জমির মালিকদের টাকা প্রদান কিংবা কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি। স্থানীয়রা ব্যবসা-বাণিজ্য গুটিয়ে নিলেও রয়েছেন অনিশ্চয়তার মধ্যে। আশপাশের মৌজাগুলোর টাকা প্রদানসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড সমাপ্ত হলেও হরিপুর মৌজার জমির মালিকরা পড়েছেন বেশ বেকায়দায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জমির মালিক জানান, ‘প্রায় অর্ধযুগ ধরে এই জমি অধিগ্রহণের কাজের কথা শুনেছি কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। আমরা ব্যবসা করতেও পারছি না। জমির মূল্যও পাচ্ছি না।’>

ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনে দীর্ঘসূত্রতা এবং ইউটিলিটি স্থাপনা স্থানান্তরসংক্রান্ত জটিলতার কথা স্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ। সাসেক-২ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ১১ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সেপ্টেম্বর ২০১৬ থেকে আগস্ট ২০২১ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৬৬২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ বেড়ে দাঁড়ায় ডিসেম্বর ২০২৪ সাল নাগাদ।>

এদিকে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী থেকে রংপুরের বড়দরগা পর্যন্ত ২৭ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়কের ৭ নং প্যাকেজের আওতায় ছয় লেনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে মাত্র ৩৭ ভাগ। অথচ ২০২২ সালেই ছয় লেনের নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে জানাচ্ছেন প্রকল্প কর্মকর্তারা। সড়ক নির্মাণ প্রকল্প প্যাকেজ-৭-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রকৌশলী আফিদ হোসেন জানান, ৫২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী থেকে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড়দরগা পর্যন্ত ২৭ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে প্রায় ২৫ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। জমির মালিকদের রংপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শতকোটি টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধ দখলদারদেরও তিন কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।>

তিনি জানান, সাত প্যাকেজের আওতায় মহাসড়কের দুই পাশে ৩০টি কালভার্টের মধ্যে ২৭টির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। চলমান আছে ৩টির কাজ। ২০১৯ সালের জুন মাসে সরকার ছয় লেনের রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক নির্মাণের আদেশ দিলেও নানা জটিলতার কারণে ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। বর্তমান কাজ দ্রুতগতিতে চলমান থাকায় মহাসড়কের চেহারাও দিন দিন দৃশ্যমান হচ্ছে।>

অপরদিকে সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের প্যাকেজ-৮-এর আওতায় পীরগঞ্জে>র বড়দরগা থেকে রংপুর নগরীর মডার্ন মোড় পর্যন্ত ২৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়কের জন্য ৪৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই নির্মাণকাজের আওতায় রয়েছে ১৭টি কালভার্ট, চারটি ব্রিজ। এসব ব্রিজ ও কালভার্টের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।>

এ বিষয়ে রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, জমি হুকুম দখল করতে সময় লাগে। সে জন্য দেরি হচ্ছে। জমি হুকুম দখলের বিষয়টি ৭ ধারা পর্যায়ে রয়েছে। আশা করছি, খুব অল্প সময়ের মধ্যে জটিলতার নিরসন হবে।

এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ   রিপু /নরসিংদী খবর

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ