শিরোনাম :
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১০:৩২ অপরাহ্ন

চিনাদী বিলের পদ্মরাজ্যে একদিন

অপু সুলতান / ৩২৭ বার
আপডেট : শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
চিনাদী_বিলের_পদ্মরাজ্যে_একদিন
নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শিবপুরের চিনাদী বিল

বিল থেকে সদ্য উঠে আসা অক্সিজেন সমৃদ্ধ সতেজ আর্দ্র বাতাস প্রশান্তির পরশ ভুলিয়ে দেয়। শরীর-মন জুড়িয়ে যায় নিমিষে। বিলের প্রকৃত সৌন্দর্য পদ্মফুলের রাজ্য দেখতে চাইলে নৌকাযোগে যেতে হবে বিলের ভিতরে

অপু সুলতান: শরৎকাল, চারদিকে কাশফুলে শুভ্রসমারোহ। আকাশে পেঁজা তুলোর মতো বিছিয়ে দেয়া মেঘ। বিলে-ঝিলে শাপলা আর পদ্মের জয়জয়কার। একটু ইচ্ছে করলেই হাত দিয়ে কাশফুল ছোঁয়া যায়। শাপলাও দেখা যায়।

কিন্তু গোলাপী-লাল-সাদা মায়ায় মেশানো পাতার ফাঁকে ফাঁকে গোখরোর মতো ফনা তোলা পদ্মফুলের দেখা পাওয়া অনেকটা কষ্টসাধ্য। হৃদয় হরণকরা পদ্মের পবিত্র মায়া মেশানো এমনই এক রাজ্য চিনাদী বিল।

Chinadi_bil_shibpur_narsingdi_narsingdi_district_narsingdijournal

পাঁচশ পঞ্চাশ বিঘার বিশাল এলাকা জুড়ে এক মনোরম নৈসর্গিক পরিবেশ নিয়ে এই বিল। পদ্মফুল, গাঙচিল, পানকৌড়ি, সাদাবক, মাছরাঙা, বালিহাঁস, বিভিন্ন প্রকার জলজ উদ্ভিদ, মাছ ধরার ছোট নৌকা, ডিঙি নৌকা, মাঝি, জেলে, সতেজ মাছ আর গোধূলির অপার সৌন্দর্য নিয়ে চিনাদী বিল।

তীরে দাঁড়িয়ে বিলের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় সহজে। বিল থেকে সদ্য উঠে আসা অক্সিজেনসমৃদ্ধ সতেজ আর্দ্র বাতাস প্রশান্তির পরশ ভুলিয়ে দেয়। শরীর-মন জুড়িয়ে যায় নিমিষে। বিলের প্রকৃত সৌন্দর্য পদ্মফুলের রাজ্য দেখতে চাইলে নৌকাযোগে যেতে হবে বিলের ভিতরে।

এখানে ছোট ডিঙি মাঝিসহ ভাড়ায় পাওয়া যায়। ঘন্টায় দেড়শো থেকে দু্‌ইশো টাকা। মাঝি বিলের চারপাশ নৌকা দিয়ে ঘুরিয়ে দেখান। ধীরে ধীরে মাঝির নৌকা পাশ কেটে যায়- জেলেরা নিবিষ্ট মনে মাছ ধরে। কোন ব্যস্ততা নেই। কোন তাড়া নেই। জীবন এখানে স্থবির অথচ সুন্দর সাবলীল। গাঙচিল পানিতে ছোঁ মেরে মাছ নিয়ে আকাশে উড়ে যায়। পানকৌড়ি ডুব দিয়ে হারিয়ে যায়, আবার ঠোঁটে মাছ নিয়ে ভেসে উঠে। একদল বক আমাদের দেখে ভয়ে অদূরে কোথাও উড়ে গিয়ে বসে।

চিনাদী_বিলের_পদ্মরাজ্যে_একদিন

সাথে থাকা সঙ্গিনী আহ্লাদে আটখানা হয়ে নিটোল জলে পা ভেজায়। মুঠোফোনে তুলে যায় অনর্গল ছবি। পদ্মফুল জড়িয়ে আমোদে আহ্লাদিত হয়, সেলফি তোলে। ভুবন বিজয়িনী মুক্তোঝরা হাসি বিলের স্বচ্ছ জলে প্রিতিবিম্বিত হয়। আমি বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকি। কখনও তাকে দেখি, কখনও পদ্মফুল।

বর্ষাকাল সবেমাত্র শেষ হয়েছে। আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। বৃষ্টির ছাট এসে ভিজিয়ে দিয়ে যেতে পারে যেকোন মুহূর্তে। আমাদের ভাগ্য ভালো, আমারা সেদিন মুষলধারে বৃষ্টি পেয়েছি। তার বৃষ্টিতে ভিজতে বেজায় ভালো লাগে, আমি বৃষ্টি দেখতে ভালোবাসি। বৃষ্টিতে ঝাপসা হয়ে আসা চিনাদী বিল অসাধারণ এক মুহূর্তের অবতারণা করে আমাদের সামনে। ভিজে যাওয়ার ভয় ছিল না। মাঝি ভাইয়ের বড় লম্বা পরিস্কার পলিথিনে নিজেদের আপদমস্তক ঢেকে নিয়েছি।

Chinadi_bil_shibpur_narsingdinarsingdi_district_narsingdijournal
বৃষ্টির খৈ ফোটা শব্দ আর ঠান্ডা পরশে অপার্থিব মায়াবনে হারিয়ে গিয়েছি। বৃষ্টি হচ্ছে অথচ মাঝি একমনে নৌকা বেয়ে চলছে। জেলেরা মাছ ধরছে নিবিষ্ট চিত্তে। তাদের ভেজার ভয় নেই। কোথাও যাওয়ার তাড়া নেই। কোন যান্ত্রিকতা নেই। বৃষ্টি শেষ হলে প্রকৃতি আরও সতেজ হয়ে উঠে। পদ্ম পাতায় বৃষ্টির কোন ছিটা-ফোটাও নেই। বৃষ্টিতে ভিজে পদ্মফুল আরও প্রান্তবন্ত হয়। ইচ্ছে করছে সব পদ্মফুল তুলে সাথে করে নিয়ে যায়। তবে পদ্মফুল না ছেড়াই শ্রেয়। পাকা পদ্মবীজ খেয়েও দেখেছি, কেমন। পদ্মবনে এভাবেই হারিয়ে যেতে যেতে চলে এলো গোধূলি বেলা।

Chinadi_bil_shibpur_narsingdi_narsingdi
শরতের সূর্য অস্তাচলে। চিনাদী বিলের স্বচ্ছ-নিটোল পানি আবির রঙ মেখেছে। এবার নীড়ে ফেরার পালা। পাখিরা ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে যাচ্ছে ঐ সুদূড়ে। স্বপ্ন চিনাদী থেকে পদ্মরাজ্যের একরাশ স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি ফিরছি। চিনাদী বিল স্বপ্নময় স্মৃতি হয়ে থাকবে।

Chinadi_bil_shibpur_narsingdi
আপনি এসেও নিয়ে যেতে পারেন এই স্বপ্নময় স্মৃতি। নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা সদর থেকে আট কি.মি পশ্চিমে। ঢাকা থেকে গিয়ে প্রথমে নামতে হবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ইটাখোলা বাসস্ট্যান্ডে। ইটাখোলা থেকে অটোরিকশা কিংবা সিএনজি চালিত অটোরিকশাযোগে সোজা চিনাদী বিল।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সুম্পুর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নরসিংদী জার্নাল বাংলাদেশ খবর মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ

error: Content is protected !!
error: Content is protected !!