মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন

“তিস্তায় তাগিদ থাকলেও চুক্তির সম্ভাবনা নেই”

রিপু / ১১৯ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী খবর ||

১২ বছর বিরতির পর দিল্লিতে বসছে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক। আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আগে উভয় দেশের কর্মকর্তারা দুই দেশের মধ্যে পানি ব্যবস্থাপনা ইস্যুতে আলোচনা করেছেন। তার পরও এই বৈঠক কতটা ফলপ্রসূ হবে তা এখনই বোঝা মুশকিল।>

৩৮তম জেআরসি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক ও ভারতের পানিসম্পদমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং সাখাওয়াত নিজ নিজ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন।>
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৈঠকে উভয় পক্ষ গঙ্গার পানি ব্যবহার এবং কুশিয়ারা নদী থেকে পানি প্রত্যাহারের একটি চুক্তির বিষয়ে যৌথ সমীক্ষা চূড়ান্ত করবে। এ ছাড়া ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে প্রবাহিত নদীগুলোর পানি প্রবাহের তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকও (এমওইউ) চূড়ান্ত করা হবে।>
সূত্র আর জানায়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ছয়টি অভিন্ন নদী- মনু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতী, ধরলা ও দুধকুমারের পানি বণ্টনে একটি কাঠামো চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। এর পাশাপাশি বৈঠকে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত তিস্তা ইস্যুটি উত্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নসংক্রান্ত বিষয়গুলোও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।>

সূত্র জানায়, জেআরসির বৈঠকে আসাম থেকে বাংলাদেশে আসা কুশিয়ারা নদী নিয়ে একটি সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া গঙ্গা নিয়েও বড় চুক্তি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে একটি কূটনৈতিক সূত্র। ১৯৯৬ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি সই হয়। ২০২৬ সালে এর মেয়াদ শেষ হবে। দুই দেশই এখন এই চুক্তির মেয়াদ আরও বাড়াতে আগ্রহী। এ ছাড়া জলযান পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ এবং নদীদূষণ হ্রাস নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সম্প্রতি সিলেটের আকস্মিক বন্যা হয় উজানের পাহাড়ি ঢলে। তাই সেখানকার বন্যার পূর্বাভাস বাংলাদেশকে আগাম জানানো ও বাঁধগুলো উন্মুক্ত করার আগে বাংলাদেশকে অবহিত করার প্রস্তাবও ভারতকে দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে ভারত নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অভিন্ন ৫৪টি নদী রয়েছে। বাংলাদেশ এসব নদীর বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে আরও তথ্য চায়। দেশের মৎস্য পরিকল্পনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। জেআরসি বৈঠকে বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নদীর তথ্য আদান-প্রদানের সময়কাল বৃদ্ধি পেতে পারে। জেআরসি বৈঠকে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা হবে বলে জানা গেছে।

তিস্তা নিয়ে একটি চুক্তিতে আসার জন্য বাংলাদেশের তরফ থেকে প্রবল চাপ থাকলেও বৈঠকে এ নিয়ে অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সদিচ্ছার সত্ত্বেও ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় এবং ২০২১ সালে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় এ বিষয়ে সমাধান আসেনি। যদিও ভারতের সঙ্গে সব পর্যায়ের যোগাযোগেই তিস্তাচুক্তির গুরুত্বের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবুল মোমেন বলেন, আমরা দেশের সবকটি নৌপথ আগের মতো সচল করতে চাই; সেই বিষয়টি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হবে। তিনি বলেন, বন্যার পূর্বাভাস বাংলাদেশকে আগাম জানানো ও বাঁধগুলো উন্মুক্ত করার আগে বাংলাদেশকে অবহিত করার কথাও ভারতকে প্রস্তাব করা হয়েছে।

এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ   রিপু /নরসিংদী খবর

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ