শিরোনাম :
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:৫২ পূর্বাহ্ন

নাট্যাঙ্গনে ড.ইনামুল হকের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

হিমেল খন্দকার, নরসিংদী জার্নাল / ১৭৩ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০২১

হিমেল খন্দকার, নরসিংদী জার্নাল: নাট্যাঙ্গনে ড.ইনামুল হকের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে: প্রধানমন্ত্রী। একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণী অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক ও শিক্ষক ড. ইনামুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাট্যাঙ্গনে ইনামুল হকের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্নার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

সোমবার দুপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর রাজধানীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়ার পর সাড়ে ৩টায় গুণী এ অভিনেতা না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৭৮ বছর।

জামাতা সাজু খাদেম জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তার ব্যাক পেইনের সমস্যা ছিলো, ‘সেই সমস্যাতেই তিনি বাসায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাকে আমরা দ্রত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন’।

১৯৪৩ সালের ৭ মার্চ ফেনীর সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন ড. ইনামুল হক। তাঁর বাবা ওবায়দুল হক ও মা রাজিয়া খাতুন। ফেনি পাইলট হাই স্কুল থেকে এসএসসি, ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসাওয়নে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন।
যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি শেষ করে ১৯৬৫ সালে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়য়ে (বুয়েট) রসায়ন বিভাগে। তিনি ১৯৮৭ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান।
ড. ইনামুল হক টেলিভিশনের জন্য নাটক লিখেছিলেন ৬০টি। তার লেখা আলোচিত নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘সেইসব দিনগুলি’ (মুক্তিযুদ্ধের নাটক), ‘নির্জন সৈকতে’ ও ‘কে বা আপন কে বা পর’। মঞ্চের জন্য তাঁর লেখা প্রথম নাটকের নাম ‘বিবাহ উৎসব’। এটি লিখেছিলেন উদীচীর জন্যে।

ইনামুল হক ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন আন্দোলনমুখী নাটকে অংশ নেন। ১৯৭০ সালে নাট্যচর্চাকে হাতিয়ার করে আইয়ুব খানের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে তৎকালীন অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেন।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সৃজনীর ব্যানারে ট্রাকে ট্রাকে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্থান সরকারের বিরুদ্ধে পথ নাটক করেন। তার ১৮টি নাটক বিভিন্ন নাট্যপত্র, বিশেষ ম্যাগাজিন এবং বই আকারে প্রকাশ হয়েছে।
ইনামুল হকের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে নির্জন সৈকতে, গৃহবাসী ও মুক্তিযুদ্ধ নাটকসমগ্র।

ড. এনামুল হকের দাম্পত্যসঙ্গী বরেণ্য নাট্যজন লাকী ইনাম। তাদের সংসারে দুই মেয়ে হৃদি হক ও প্রৈতি হক। ২০১২ সালে একুশে পদক এবং ২০১৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার পান ইনামুল হক।

এই ওয়েবসাইটের লেখা আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ

error: Content is protected !!
error: Content is protected !!