মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন

“পরীক্ষায় ফেল, স্কুলের শিক্ষার্থীর আত্ম’হত্যা”

রিপু / ১৩২ বার
আপডেট : বুধবার, ২৪ আগস্ট, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী খবর ||

 

হলিক্রস স্কুলের এক কিশোরী শিক্ষার্থীকে ফেল করানোর কারণে অপমান সইতে না পেরে ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম পারপিতা ফাইহাকে (১৪)। সে ওই স্কুলের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলেন।মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) বিকাল ৫ টার দিকে ২৯, তেজগাঁও রেলস্টেশন রোডের নন্দন রোকেয়া নামের ১২ তলার অ্যাপার্টমেন্টে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন তেজগাঁও থানার ওসি অপূর্ব হাসান।>

তিনি বলেন, হলিক্রস স্কুলের নবম শ্রেণীর একজন ছাত্রী ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছে। তাকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে পান্থপথের একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর সে মারা যায়। তবে কি কারণে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করছে। বিষয়টি আত্মহত্যা নাকি অন্যকিছু তা ময়নাতদন্ত করলে জানা যাবে।>

পুলিশ সূত্র জানায়, পারপিতা স্কুলে থেকে ফিরে এসে বাসায় না গিয়ে লিফটে ভবনের ছাদে চলে যায়। স্কুলের পোশাক পরিহিত অবস্থায় ছাদ থেকে নিচে ঝাঁপ দেয়। আহত অবস্থায় পারপিতাকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবারের সদস্যরা। পরে অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে পান্থপথের স্কয়ার হসপিটাল স্থানান্তর করা হয়। রাত ৮ টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।>

পারপিতার সহপাঠীরা অভিযোগ করেছে, স্কুলের উচ্চতর গ>নিতে ফেল করার অপমান সহ্য করতে না পেরে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। পারপিতা নবম শ্রেণীর সি শাখায় ফার্স্ট গার্ল। সি ও ডি শাখায় উচ্চতর গনিতের ক্লাশ নেন শোভন রোজারিও নামের শিক্ষক। রাজধানীর ইন্দিরা রোডে তার বাসায় এ বিষয়ে ব্যাচ ধরে প্রাইভেট পড়ান। যেসব ছাত্রী তার কাছে উচ্চতর গনিতে প্রাইভেট পড়েন না, তাদেরকে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেন। এ বছর প্রথম সাময়িকী পরীক্ষায় উচ্চতর গনিতে সি ও ডি শাখার ১০২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ জনকে ফেল করানো হয়। দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় উচ্চতর গনিতে ৫৫ জনকে ফেল করানো হয়। পারপিতা সি শাখায় ফার্স্ট গার্ল হওয়া সত্ত্বেও প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার উচ্চতর গনিতে ফেল করে।>

হলিক্রস স্কুলের নবম শ্রেণীর পারপিতার সহপাঠীরা আরো অভিযোগ করেন, শিক্ষক শোভন রোজারিও পারপিতাকে তার বাসায় প্রাইভেট পড়তে বলেছিলেন। পারপিতা পড়তে রাজি হননি। এ কারণে ফার্স্ট গার্ল হওয়া সত্ত্বেও পারপিতাকে ফেল করিয়ে দেওয়া হয়। পরপর একই বিষয়ে দুই বার ফেল করায় স্কুলের অধ্যক্ষ পারপিতার অভিভাবককে বৃহস্পতিবার দেখা করার নির্দেশ দেন। এ খবর পেয়ে সোমবার থেকে পারপিতা আতংকে ছিল। সে তার বাবা মাকে বিষয়টি বলতেও পারেনি। মঙ্গলবার স্কুলে সহপাঠীদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করে। কিন্তু কোনো উপায় বের করতে পারেনি।>

এ বিষয়ে মঙ্গলবার রাতে হলিক্রস স্কুলের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা স্কুল শাখার মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে, সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। স্কুলের কোনো শিক্ষকের বক্তব্য নেওয়ার জন্য চেষ্টা করেও কারো কোনো বক্তব্য মিলেনি>

এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ   রিপু /নরসিংদী খবর

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ