শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:৩০ পূর্বাহ্ন

হাজার কোটি টাকায় নির্মিত হচ্ছে বালুর বেড়িবাঁধ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী জার্নাল / ১৪২ বার
আপডেট : সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০২২
হাজার কোটি টাকায় নির্মিত হচ্ছে বালুর বেড়িবাঁধ!

বরগুনা নিজস্ব প্রতিবেদক।। হাজার কোটি টাকায় নির্মিত হচ্ছে বালুর বেড়িবাঁধ!।

বরগুনার পাথরঘাটায় বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ২ হাজার ৮৯ কোটি টাকার প্রকল্পের চরদোয়ানী স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে বালু দিয়ে। নিয়মবহির্ভূত এ কাজে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাধা দিলেও থামেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মাটির বদলে বালু দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করলে পানির চাপে নিমিষেই ভেঙে যাবে এ বাঁধ, দাবি স্থানীয়দের।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পে বন্যা ও নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া, পটুয়াখালীর গলাচিপা, কলাপাড়া ও বরগুনার পাথরঘাটার ৬টি পোল্ডারে ২০৮ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৮৯ কোটি টাকা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চংকিং ইন্টারন্যাশনাল কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন এই বাাঁধ নির্মাণের টেন্ডারটি পায়। এর মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটার বলেশ্বর নদীর ভাঙন রুখতে ৩৪ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১২৮.৯ কোটি টাকা। কিন্তু এসব এলাকার বাঁধ নির্মাণে মাটির বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে বালু। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড নিয়ম বহির্ভূত কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও তোয়াক্কা করছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

চরদোয়ানী এলাকার হায়দার আলী, মোহাম্মদ খান, মকবুল দফাদারসহ একাধিক বাসিন্দা বলেন, এই বেড়িবাঁধ আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ভেবেছিলাম বিভিন্ন সময়ের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে আমাদের এলাকার মানুষজন, পশু-পাখি ও ফসল রক্ষা করবে এই বেড়িবাঁধ। কিন্তু যেখানে পানির তোড়ে মাটিই ভেসে যায়, সেখানে বালু দিয়ে নির্মাণ হচ্ছে বেড়িবাঁধ। এতে আমাদের কোনো উপকার হবে বলে মনে হয় না।

একই এলাকার বাসিন্দা মোশারফ মিয়া বলেন, ২০০৭ সালের সিডরে এখানে প্রায় ৪০ জন মানুষ প্রাণ হারায়। এর একমাত্র কারণ ছিল ভাঙা বেড়িবাঁধ। অনেক আন্দোলনের পরে আমরা স্থায়ী বেড়িবাঁধ পেয়েছি। কিন্তু সেই বেড়িবাঁধ নির্মাণ হচ্ছে বালু দিয়ে। এই বালুর বেড়িবাঁধ পানির চাপে ভেঙে যাবে। ওরা ড্রেজার দিয়ে লোকাল বালু এনে উপরে মাটির প্রলেপ দিয়ে বালু ঢেকে দিচ্ছে। এই বেড়িবাঁধ মিশে যাবে বৃষ্টির পানিতে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের যোগসাজশে বালু দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে বেড়িবাঁধ। কেউ এর প্রতিবাদ করলে তাকে হুমকি দিচ্ছে ওই চেয়ারম্যান। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান জুয়েল বলেন, এই কাজের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

সিডিউল বহির্ভূত এমন কাজ বন্ধে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে বরগুনা জেলা প্রশাসন। তবুও থামেনি তাদের বালু দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কাজ। তবে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাদের সঙ্গে একাধিক বার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পটুয়াখালী সার্কেলের তত্ত্বাবধায় কাইছার আলম বলেন, একাধিকবার কাজ বন্ধে নির্দেশ দিয়েছি আমরা। তবুও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় অসাধু প্রভাবশালীদের সহায়তায় বালু দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজটি করে যাচ্ছে।

বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের সিএসই হারুন অর রশিদ বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে আমরা অসহায়। আমরা একাধিকবার তাদেরকে সিডিউল বহির্ভূত কাজ বন্ধে চিঠি দিয়েছি। আমি নিজে চরদোয়ানী এলাকা ঘুরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চায়নার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের এই অংশের বিল কেটে রেখে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, সিডিউল বহির্ভূত কাজের কথা জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমাদের কথা মানছে না। আমি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দিয়ে সুপারিশ করেছি।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ